![]() |
| জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দাগী গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের নিচে বিধ্বস্ত ঘর। |
প্রধান প্রতিবেদকঃ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে গাছ উপড়ে বসতঘরের ওপর পড়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন বৃদ্ধা মা ও তাঁর দুই মেয়ে। সোমবার ভোরে উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের দাগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন দাগী গ্রামের মৃত গণি মন্ডলের স্ত্রী খুকি বেগম (৯০), তাঁর মেয়ে ফাতে বেগম (৫০) ও ফরিদা বেগম (৪৫)। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভোরের ঝড়ে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে পুরো ঘর। ঘুমন্ত অবস্থাতেই প্রাণ হারান তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, খুকি বেগম দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে দেখতে কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন ছোট মেয়ে ফরিদা বেগম। রোববার রাতে মা ও দুই বোন একসঙ্গে খাবার খেয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোরে কালবৈশাখীর সময় ঘরের পেছনের বড় একটি গাছ উপড়ে সরাসরি টিনশেড ঘরের ওপর পড়ে।
সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাঁদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়।
সোমবার সকালে দাগী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়কের পাশে উৎসুক মানুষের ভিড়। বাড়ির উঠানে পাশাপাশি রাখা তিনটি খাটিয়া ঘিরে চলছে স্বজনদের আহাজারি। অল্প দূরেই পড়ে আছে উপড়ে যাওয়া বিশাল গাছটি। তার নিচে ছিন্নভিন্ন হয়ে আছে টিনের চাল, বাঁশের খুঁটি ও ঘরের দেয়াল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খুকি বেগমের স্বামী একজন কৃষক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানদের ওপরই পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে। বড় মেয়ে ফাতে বেগমের বিয়ে হলেও সেই সংসার টেকেনি। পরে তিনি মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। অন্যদিকে ছোট মেয়ে ফরিদা বেগম বিয়ের পর স্বামী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। অসুস্থ মায়ের খবর পেয়ে কয়েক দিন আগে বাড়িতে আসেন তিনি।
খুকি বেগমের ছেলে আহলু মিয়া বলেন, ঘরের পেছনের গাছটি ঝড়ে উপড়ে সরাসরি বিছানার ওপর পড়ে। তখন কেউ কিছু বুঝে ওঠার সুযোগ পাননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিস্থিতি দেখে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাছ ও ভাঙা ঘরের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মেলান্দহ থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবীর জানান, ভোরে উপজেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী বয়ে যায়। এতে গাছচাপায় মা ও দুই মেয়ের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে কালবৈশাখীর তীব্রতা বেড়েছে। ঝড়ের সময় পুরোনো ও বড় গাছ বসতঘরের পাশে থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে টিনশেড ও দুর্বল কাঠামোর ঘরগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
দাগী গ্রামের এই মর্মান্তিক ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। এক ঝড়েই একটি পরিবারের তিনটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে নীরবতা। প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপ কত দ্রুত একটি পরিবারের সবকিছু বদলে দিতে পারে, মেলান্দহের এই ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতাই সামনে আনল।
