![]() |
| জামালপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয় |
প্রধান প্রতিবেদকঃ
আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে জামালপুরে সার্বিক প্রস্তুতি জোরদারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপত্তা, পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য অপসারণ এবং ঈদে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সভায় একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে জামালপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা কোরবানির পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঈদ উপলক্ষে নগর ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ করে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে জনভোগান্তি কমানো এবং ঈদের নামাজে মুসল্লিদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পায় আলোচনায়।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, ঈদকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, পশুর হাটগুলোতে জাল নোটের লেনদেন ঠেকাতে জাল মুদ্রা শনাক্তকারী মেশিন স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোরবানির পর সংগৃহীত কাঁচা চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যেন অবৈধভাবে পশুর হাট বসতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। বাজার তদারকি জোরদার করেও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আফসানা তাসলিমের সঞ্চালনায় সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ঈদুল আজহা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাই আগাম প্রস্তুতি জনদুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহা ঘিরে জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, যানজট, জাল নোটের লেনদেন এবং কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি এসব ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জামালপুরে এবার ঈদুল আজহা আয়োজনকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে প্রশাসনের এই প্রস্তুতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে উৎসবের আনন্দ যেমন বাড়বে, তেমনি কমবে ভোগান্তিও এটাই এখন জেলার প্রত্যাশা।
