রমজান আলী, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে উন্নত ধানের নতুন জাত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান ১০২ ও ব্রি ধান ১০৫-এর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই আয়োজন কৃষকদের কাছে নতুন জাতের ফলন সক্ষমতা ও রোগ সহনশীলতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দিয়েছে।
১৩ মে ধনবাড়ী উপজেলার কিসামত প্রযুক্তি গ্রামে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইলের তত্ত্বাবধানে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নমুনা ফসল কর্তনের মাধ্যমে দুটি জাতের ফলন মূল্যায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, টাঙ্গাইলের প্রধান ড. মসউদ ইকবাল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আদিবা আফরিন রিমসহ কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মাঠ দিবসের অংশ হিসেবে দুটি জাতের ১০ বর্গমিটার জমি থেকে নমুনা ফসল কর্তন করা হয়। পরে ফলন বিশ্লেষণে ১৪ শতাংশ আর্দ্রতায় গড় ফলন নির্ধারণ করা হয়। এতে ব্রি ধান ১০২-এর ফলন পাওয়া যায় ৩২ মণ প্রতি বিঘা এবং ব্রি ধান ১০৫-এর ফলন পাওয়া যায় ৩০ মণ প্রতি বিঘা।
মাঠ দিবসে প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ জন কৃষক ও কৃষাণী অংশ নেন। তারা ধান জাত দুটির ফলন ক্ষমতা, রোগ সহনশীলতা এবং মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান। উপস্থিত অনেক কৃষক জাতগুলোর সামগ্রিক কর্মক্ষমতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে এমন প্রদর্শনী কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত নতুন জাতগুলোর মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মাঠ দিবস আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উন্নত জাত নির্বাচন সহজ হয় এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পথ সুগম হয়।
ধনবাড়ীর এই মাঠ দিবস শুধু একটি কৃষি প্রদর্শনী নয়, বরং আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে স্থানীয় কৃষকদের অগ্রযাত্রার একটি বাস্তব পদক্ষেপ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ব্রি ধান ১০২ ও ১০৫-এর ইতিবাচক ফলন তথ্য কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং আগামী মৌসুমে এসব জাতের চাষ আরও বিস্তৃত হবে।
