সরিষাবাড়ী প্রতিবেদকঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় পিতার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিয়ে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছোট বোনের মামলা দায়েরের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জমি-জমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই মামলা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
পিতার মৃত্যু ও দুর্ঘটনার ঘটনা
সামর্থবাড়ি গ্রামের রইচ উদ্দিন (৮৫) দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। বড় মেয়ে মিনা বেগমের জিম্মায় থাকা অবস্থায় গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের দুই দিন পর ২১ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাইকতাই এলাকায় মধুপুর-জামালপুর মহাসড়কের সুজন মোড়ে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন।
পরদিন ২২ জানুয়ারি বিকেলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মধুপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধ রইচ উদ্দিন মহাসড়কের পাশে দোকানে বসা অবস্থায় হঠাৎ উঠে রাস্তা পার হতে গিয়ে চলন্ত বাসের ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন।
হত্যা মামলা দায়ের ও অভিযোগ
নিহতের মেয়ে মিনা বেগম টাঙ্গাইলের মধুপুর আমলী আদালতে তার বড় ভাই সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সোহেল রানা সরিষাবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার।
সোহেল রানা বলেন, জমি-সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে বোন মিনা বেগম, রত্না খাতুন, ভাই সুলতান মিয়া ও কয়েকজন প্রতিবেশীর যোগসাজশে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে এই পরিকল্পিত মামলা করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া জানান, সোহেল রানার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটতরাজের এজাহার পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধুপুর থানার উপ-পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে বৃদ্ধ রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, ভাই-বোনের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এই বিরোধ থেকেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা চলছে।
