সরিষাবাড়ীতে বিএনপি কার্যালয়ে আগুন ভাঙচুর উত্তেজনা

সরিষাবাড়ীতে বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনাস্থল
সরিষাবাড়ীতে বিএনপির কার্যালয়ে আগুন ও ভাঙচুরের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ


এস এম ইব্রাহিম হোসাইনঃ

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় বিএনপির একটি ওয়ার্ড কার্যালয়ে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।

গত শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের মানিকপটল বিন্যাফৈর বাজারের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়, পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতামূলক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ভেতরে থাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ছবিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এছাড়া কার্যালয়ের আসবাবপত্র, টেবিল এবং ধানের শীষের প্রতীক সম্বলিত বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। পুরো কার্যালয়টি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে চারপাশে ডিজেল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শনিবার সকালে এলাকায় সাধারণ মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।

পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ফকির ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রঞ্চু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই কাপুরুষোচিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দলীয় কার্যালয় ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আলোচনায় রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

সরিষাবাড়ীর এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় এখনো সতর্ক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও, স্থানীয়দের প্রত্যাশা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা হবে।

নবীনতর পূর্বতন