![]() |
| ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর চর ভাতকুড়া গ্রামে দ্রুত বোরো ধান কাটছেন কৃষকরা |
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌর শহরের চর ভাতকুড়া গ্রামে এখন বোরো ধান কাটার ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। সম্ভাব্য ঝড়বৃষ্টি এবং জমিতে পানি জমে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধান ঘরে তুলতে মাঠে নেমেছেন।
মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে কৃষকদের মূল উদ্বেগ এখন উৎপাদন খরচ তুলতে পারা। সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় এবারের বোরো চাষে ব্যয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
চর ভাতকুড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, “এবার বোরো ধানের চাষে কীটনাশক, সার আর কামলার মজুরি মিলিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানের দাম যেভাবে আছে, তাতে লাভ বলতে গেলে শুধু গরুর খড়টাই থাকবে।”
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, কয়েকদিনের আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সময়মতো ধান কাটতে না পারলে ঝড়বৃষ্টি কিংবা জমিতে পানি জমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুম দেশের খাদ্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষকের ন্যায্য লাভ নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রেক্ষাপট
বোরো মৌসুমে ধান কাটার সময় আবহাওয়ার সামান্য বিরূপ প্রভাবও কৃষকের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে সার, কীটনাশক ও শ্রম ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মাঠপর্যায়ের চাষিরা লাভজনক উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় থাকেন। ধনবাড়ী অঞ্চলের কৃষকরাও এবার সেই বাস্তবতার মুখোমুখি।
ধান ঘরে তোলার এই ব্যস্ততার মধ্যেও কৃষকদের চোখে-মুখে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ। উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের ভারসাম্য নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে বোরো চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
