তিমি-হাঙরের মিমে মামলা! হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন: অপরাধ কী?

 

কুমিল্লা-৪ এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে তিমি-হাঙর মিম মামলা নিয়ে প্রশ্ন করছেন

অনলাইন ডেস্কঃ

তিমি-হাঙরের মিম শেয়ার করার কারণে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৫ ধারায় মামলা দায়েরের ঘটনায় সংসদে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

একটি রূপক স্যাটায়ার মিমকে ‘যৌন নির্যাতন’ মামলা হিসেবে দেখানোয় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ঘটনাটা কী? হাসনাত আবদুল্লাহ যা বললেন

বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চিফ হুইপ এমপিদের একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে রূপক হিসেবে তিমি মাছ ও হাঙর মাছের ছবি দিয়ে একটি স্যাটায়ার মিম শেয়ার করেছিলেন।


ল্যাপটপের স্ক্রিনে তিমি ও হাঙরের রূপক স্যাটায়ার মিম শেয়ার করা হচ্ছে, টেবিলে হাত দিয়ে মাউস ধরা

 

অর্থাৎ সরাসরি কাউকে কিছু না বলে, মাছের ছবি দিয়ে রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থা বুঝাতে চেয়েছিলেন। এটাকেই বলে ‘রূপক স্যাটায়ার’।

কিন্তু এই তিমি-হাঙরের মিম শেয়ারের পর চিফ হুইপের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৫ ধারায় মামলা করা হয়। সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন।

সমস্যাটা কোথায়? ২৫ ধারা কী বলে?

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৫ ধারা মূলত ব্যবহার করা হয় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং বা অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রচারের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে। সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছর জেল বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা।

সংসদে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, “২৫ ধারায় মামলা করা হয় যৌন নির্যাতন করা হলে। কিন্তু চিফ হুইপকে নিয়ে যে মিম শেয়ার করা হয়েছে, সেখানে কোথায় যৌন নির্যাতন করা হয়েছে? এখানে একটা মিম শেয়ার দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিমি মাছ সবাইকে সার্ভ করা হচ্ছে।”

হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য: মতপ্রকাশে দমন-নিপীড়ন

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের মামলায় বিরোধী মতকে দমন-নিপীড়নের জন্য গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং জামিনও দেওয়া হচ্ছে না। হাসনাত আবদুল্লাহ মনে করেন, রূপক মিম শেয়ার করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে।

কেন বিষয়টি ভাইরাল? নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া

১. মতপ্রকাশের শঙ্কা: সাধারণ মানুষ ভাবছে, তিমি-হাঙরের মিম শেয়ার করলেই যদি যৌন নির্যাতন মামলা হয়, তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে না।

২. আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ: নেটিজেনদের মতে, সাইবার আইনের ধারাগুলো ভুলভাবে প্রয়োগ করে যে কাউকে হয়রানি করা যাচ্ছে।

৩. রূপক vs অপরাধ: একটি রূপক স্যাটায়ার মিমকে অপরাধ হিসেবে দেখানোয় ডিজিটাল অ্যাক্টিভিস্টরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

আইন কী বলছে?

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রমণাত্মক, ভীতি প্রদর্শক বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করে কাউকে বিরক্ত, অপমান বা হেয় করে, তাহলে সেটা অপরাধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যাটায়ার বা রূপক মিম শেয়ার করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে। উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট না বুঝে মামলা করলে আইনের অপব্যবহার হয়।

শেষ কথা

তিমি-হাঙরের মিম থেকে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২৫ ধারার প্রয়োগ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

নবীনতর পূর্বতন