যমুনা কারখানায় গ্যাস সংকটে ২৩৭ কোটি ক্ষতি

যমুনা কারখানায় গ্যাস সংকটে ২৩৭ কোটি ক্ষতি


নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকার পর যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল) পুনরায় উৎপাদনে ফেরানো হয়েছিল। 

কারখানার দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১,৭০০ মেট্রিক টন, কিন্তু গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১,২০০ মেট্রিক টন। ফলে এক মাসে প্রায় ৩৬,০০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন থেকে বাদ পড়েছে। 

এই পরিমাণ সার আমদানি করতে খরচ হবে প্রায় ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যেখানে স্থানীয় উৎপাদনের খরচ হত মাত্র ৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার কৃষকের সার সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বাজারে চাপ বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও বেড়েছে, যা কৃষি খাতের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।

গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছিল ২৪ নভেম্বর ২০২৫, এবং ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ কারখানা উৎপাদনে ফিরে আসে। তবে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ গ্যাসের চাপ কমে ৮ কেজি/সেমি²-এ নেমে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি চাপ আরও কমে ৫.২ কেজি/সেমি²-এ নেমে পুরো কারখানাই অচল হয়ে পড়ে।

কারখানার জিএম (অপারেশন) মো. ফজলুল হক বলেন, “গ্যাসের চাপ কমে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। রমজান মাসে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয় বলে তিতাস জানিয়েছে। কবে স্বাভাবিক হবে, তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।”

উপমহাব্যবস্থাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে কারখানা দ্রুত উৎপাদনে ফিরে যাবে।

দৈনিক ১,২০০ মেট্রিক টন উৎপাদন থাকলেও এক মাস চালু থাকলে সম্ভাব্য উৎপাদন হতো ৩৬,০০০ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ সার আমদানি করলে ব্যয় হবে প্রায় ৩১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যেখানে স্থানীয় উৎপাদনের খরচ হত মাত্র ৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) জামালপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি চান মিয়া চানু বলেন, “কারখানা বন্ধ থাকলে কৃষক নির্ধারিত মূল্যে সার পাবে না। যমুনার সার ভালো মানের, তাই চাহিদাও বেশি। উৎপাদন বন্ধ মানেই আমদানির ওপর নির্ভরতা।”

বিএফএ রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম সরদার বলেন, “উৎপাদিত সার ভালো মানের হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেশি। বন্ধ থাকলে বাজারে চাপ পড়ে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে।”

শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা এবং নীতিগত অসংগতি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে বারবার সমস্যা তৈরি করছে।

দৈনিক ১,২০০ মেট্রিক টন ক্ষমতার কারখানা বন্ধ থাকা মানে শুধু রাজস্ব ক্ষতি নয়, কৃষি উৎপাদন ও বাজারের স্থিতিতেও প্রভাব পড়ে। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব কৃষি খাত ও বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করবে।

নবীনতর পূর্বতন