বিএসএফ পুশ-ইনের শিকার ৪ ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরলেন | চাঁপাইনবাবগঞ্জ

 

বিএসএফ পুশ-ইনের শিকার চার ভারতীয় নাগরিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ভারতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ভারতে ফেরত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএসএফ পুশ-ইনের শিকার চার ভারতীয় নাগরিক।

🔴 ব্রেকিং নিউজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে হস্তান্তর
📅 ৮ জুলাই ২০২৬ 📍 চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ ✍️ নিউজ ডেস্ক ⏱️ পড়তে ৫ মিনিট
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইনের শিকার চার ভারতীয় নাগরিককে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) বেলা সোয়া তিনটার দিকে সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাঁদের হস্তান্তর করা হয়।

হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও উপস্থিতি

ফেরত যাওয়া চারজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা গ্রামের সুইটি বিবি, তাঁর দুই ছেলে কুরবান শেখ (১৭) ও ইমাম দেওয়ান (৬) এবং পাইকোর গ্রামের দানিশ শেখ। প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশে আটকে থাকার পর অবশেষে তাঁরা নিজ দেশে ফিরতে পারলেন।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাজশাহীতে ভারতের সহকারী হাইকমিশনের দুই প্রতিনিধি, বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী প্রথম আলোকে জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনার সময়রেখা

জুন ২০২৫
কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে দুই শিশুসহ ছয় ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফ জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেয়
২০ আগস্ট ২০২৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলীনগর এলাকায় আশ্রয় নিলে পুলিশ তাঁদের আটক করে। চারজনের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা
৫ ডিসেম্বর ২০২৫
অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি ও শিশুসন্তানকে ভারতে পাঠানো হয়। বাকি চারজন মামলার কারণে আটকে যান
১ ডিসেম্বর ২০২৫
আদালত চারজনকে জামিন দেন। ৫ ডিসেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান
৮ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে চারজন ভারতে ফেরত যান

আটকের পর জীবন

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নয়াগোলা গাইনপাড়ায় স্থানীয় এক বাসিন্দার জিম্মায় বসবাস করছিলেন। গত সাত মাস স্থানীয় লোকজন তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফিরে যাওয়ার সময় তাঁরা বিএসএফের অমানবিক আচরণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

🔍 মূল তথ্য: পুশ-ইনের শিকার ভারতীয় নাগরিকদের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ তাঁদের বাংলাদেশি মনে করে আটক করার পর বিএসএফ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠায়। তাঁরা ভারতীয় নাগরিক হওয়ার যাবতীয় প্রমাণ সাপেক্ষে কলকাতা হাইকোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন।

বিএসএফ পুশ-ইন: একটি বড় সংকট

এই ঘটনা কেবল একটি পারিবারিক ট্রাজেডি নয়, বরং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চলমান একটি বড় সংকটের প্রতীক। বিএসএফের পুশ-ইন নীতি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।

পরিসংখ্যান

২,৪৭৯
মে ২০২৫ - জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পুশ-ইন
১২০
ভারতীয় নাগরিক (শনাক্ত)
৩২
জেলায় পুশ-ইনের ঘটনা
৩৪
২০২৫ সালে সীমান্ত হত্যা

আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR)-এর ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ব্যতীত বহিষ্কার করা যাবে না। একই চুক্তির ১২(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কাউকে তাঁর নিজ দেশে প্রবেশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই এই চুক্তির স্বাক্ষরকারী।

"সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার। তবে সেই অধিকার কখনোই আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, বৈষম্যহীনতা, ন্যায্য বিচার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং আইনের শাসনের মৌলিক নীতিকে উপেক্ষা করার বৈধতা দেয় না।"

— অ্যাডভোকেট শাহানূর ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)

বাংলাদেশের অবস্থান

বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যথাযথ নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশ গ্রহণ করা হবে না। বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতকে ১২-১৩টি কূটনৈতিক প্রতিবাদ নোট পাঠিয়েছে।

আগামী পদক্ষেপ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিকের ফেরত যাওয়া একটি আশাবাদের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু এটি কেবল একটি ব্যতিক্রম। সীমান্তে চলমান সংকটের সমাধান হতে হলে ভারতকে অবশ্যই তাঁদের একতরফা পুশ-ইন নীতি বন্ধ করতে হবে। দুই দেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসরণ করতে হবে।

তথ্যসূত্র

তথ্যসূত্রতারিখবিষয়
প্রথম আলো৮ জুলাই ২০২৬হস্তান্তর অনুষ্ঠান ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
জাগোনিউজ২৪৮ জুলাই ২০২৬ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ফেরত যাওয়ার বিস্তারিত
প্রথম আলো (ইংরেজি)২৬ জানুয়ারি ২০২৬২,৪৭৯ জন পুশ-ইনের পরিসংখ্যান
নিউ এইজ১০ মে ২০২৬বিএসএফ পুশ-ইন পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক আইন
দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা)২০ জুন ২০২৬বিজিবি-বিএসএফ পুশ-ইন প্রতিরোধ

💬 আপনার মতামত জানান

বিএসএফের পুশ-ইন নীতি সম্পর্কে আপনার কী মনে হয়? নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।

নবীনতর পূর্বতন