![]() |
| চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ভারতে ফেরত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএসএফ পুশ-ইনের শিকার চার ভারতীয় নাগরিক। |
হস্তান্তর প্রক্রিয়া ও উপস্থিতি
ফেরত যাওয়া চারজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মুরারাই থানার ধিতরা গ্রামের সুইটি বিবি, তাঁর দুই ছেলে কুরবান শেখ (১৭) ও ইমাম দেওয়ান (৬) এবং পাইকোর গ্রামের দানিশ শেখ। প্রায় এক বছর ধরে বাংলাদেশে আটকে থাকার পর অবশেষে তাঁরা নিজ দেশে ফিরতে পারলেন।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রাজশাহীতে ভারতের সহকারী হাইকমিশনের দুই প্রতিনিধি, বিজিবি ও বিএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী প্রথম আলোকে জানান, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমঝোতার ভিত্তিতে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা
আটকের পর জীবন
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের নয়াগোলা গাইনপাড়ায় স্থানীয় এক বাসিন্দার জিম্মায় বসবাস করছিলেন। গত সাত মাস স্থানীয় লোকজন তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। ফিরে যাওয়ার সময় তাঁরা বিএসএফের অমানবিক আচরণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের জনগণ ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএসএফ পুশ-ইন: একটি বড় সংকট
এই ঘটনা কেবল একটি পারিবারিক ট্রাজেডি নয়, বরং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চলমান একটি বড় সংকটের প্রতীক। বিএসএফের পুশ-ইন নীতি আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন।
পরিসংখ্যান
আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR)-এর ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে আইনসম্মত প্রক্রিয়া ব্যতীত বহিষ্কার করা যাবে না। একই চুক্তির ১২(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কাউকে তাঁর নিজ দেশে প্রবেশের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই এই চুক্তির স্বাক্ষরকারী।
— অ্যাডভোকেট শাহানূর ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)
বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যথাযথ নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশ গ্রহণ করা হবে না। বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতকে ১২-১৩টি কূটনৈতিক প্রতিবাদ নোট পাঠিয়েছে।
আগামী পদক্ষেপ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিকের ফেরত যাওয়া একটি আশাবাদের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু এটি কেবল একটি ব্যতিক্রম। সীমান্তে চলমান সংকটের সমাধান হতে হলে ভারতকে অবশ্যই তাঁদের একতরফা পুশ-ইন নীতি বন্ধ করতে হবে। দুই দেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসরণ করতে হবে।
তথ্যসূত্র
| তথ্যসূত্র | তারিখ | বিষয় |
|---|---|---|
| প্রথম আলো | ৮ জুলাই ২০২৬ | হস্তান্তর অনুষ্ঠান ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য |
| জাগোনিউজ২৪ | ৮ জুলাই ২০২৬ | ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে ফেরত যাওয়ার বিস্তারিত |
| প্রথম আলো (ইংরেজি) | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২,৪৭৯ জন পুশ-ইনের পরিসংখ্যান |
| নিউ এইজ | ১০ মে ২০২৬ | বিএসএফ পুশ-ইন পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক আইন |
| দ্য ডেইলি স্টার (বাংলা) | ২০ জুন ২০২৬ | বিজিবি-বিএসএফ পুশ-ইন প্রতিরোধ |
💬 আপনার মতামত জানান
বিএসএফের পুশ-ইন নীতি সম্পর্কে আপনার কী মনে হয়? নিচের কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।
