অনলাইন ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান-এর বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের বালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো, সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই অভিযান ছিল তাদের জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার অংশ এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করাই এর উদ্দেশ্য।
হামলার পরপরই ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters ও AP News জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হলেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানে।
ইসরায়েলের বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিব-এ প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় জরুরি সেবাসংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।
সংঘাতের প্রভাব কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বহু ফ্লাইট বাতিল বা ঘুরপথে পরিচালিত হচ্ছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় তেলবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। United Nations Security Council জরুরি বৈঠক আহ্বান করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ও এশীয় বেশ কয়েকটি দেশ কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ না করে।
বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে।
সামরিক পদক্ষেপ ও পাল্টা হামলার এই ধারাবাহিকতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
