"রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, সাধারণ পরিবারদের ওপর চাপ — সরকার দ্রুত স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি”

“রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, সাধারণ পরিবারদের ওপর চাপ — সরকার দ্রুত স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি”


প্রধান প্রতিবেদকঃ

পবিত্র রমজান শুরু হতেই দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে চাপের মুখে ফেলেছে। বাজার জরিপে দেখা গেছে, লেবু, শাকসবজি, তেল, ডালসহ অন্যান্য মৌসুমী খাদ্যদ্রব্যের দাম আগের অপেক্ষা প্রায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি বেড়েছে, ফলে সাধারণ ভোক্তা তাদের দৈনন্দিন বাজেট সামলাতে কষ্ট পাচ্ছেন। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কেবল মৌসুমী চাহিদা বৃদ্ধিই নয়, কিছু ব্যবসায়ী এবং বড় পাইকারি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে গঠিত সিন্ডিকেট ও মজুদ কেন্দ্রিক মূল্য নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা সরবরাহকে সীমিত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও নওগাঁসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারে লেবু, বেগুন, শসা ও মরিচের দাম প্রতিদিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০–৫০% পর্যন্ত বেড়েছে। এই ঊর্ধ্বগতি অনেক নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারকে তাদের খাদ্য খরচ পুনর্বিন্যাস করতে বাধ্য করছে।

সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন যে দেশের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি বলেছেন, দাম নিয়ন্ত্রণ বোঝানো “সাউন্ড বাইট” নয়—কাজের মাধ্যমে ফল দেখানো হবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীও রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এর দাম স্থিতিশীল রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং সিন্ডিকেট বা অসাধু ব্যবসায়ীকে বেপরোয়া দাম বৃদ্ধির সুযোগ দিতে না বলেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে যারা জনস্বার্থের এ সংকট সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB) ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কম দামে ন্যায্য মূল্য প্যাকেজ বিক্রি শুরু করেছে, যাতে নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলো তুলনামূল্য কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেতে পারে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজার মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে লড়াই করতে হলে শুধু তদারকি নয়, সরাসরি কৃষক থেকে বাজার পর্যন্ত সরবরাহ চেইনকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা দরকার। এতে করে সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম সংকটের হাত থেকে ভোক্তাদের রক্ষা করা যেতে পারে।

রমজান মাসের শুরুতেই এই দামের ঊর্ধ্বগতি সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিশীল পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নবীনতর পূর্বতন