মাইনুল ইসলাম রিফাতঃ
বাংলাদেশের উত্তর-মধ্যাঞ্চলের জেলা জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় “তালুকদার বাড়ি” দীর্ঘদিন ধরেই একটি পরিচিত রাজনৈতিক নাম। স্থানীয় রাজনীতিতে এই পরিবারের প্রভাব ও ঐতিহ্য কয়েক দশক ধরে আলোচিত। বর্তমানে সেই ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফরিদুল কবীর তালুকদার (শামীম), যাঁর সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তাঁর রাজনৈতিক উত্থানকে শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী সাফল্য হিসেবে দেখলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। এটি বরং দীর্ঘ সময়ের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক সক্রিয়তার ফলাফল। তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে পরিবারকেন্দ্রিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় বাস্তবতার অভিজ্ঞতার ওপর।
শামীম তালুকদার সরিষাবাড়ী পৌরসভার মুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মরহুম সাইদুর রহমান তালুকদারের সন্তান। তিনি সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের রাজনৈতিক উত্তরসূরী। পারিবারিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠার কারণে তিনি অল্প বয়স থেকেই রাজনীতির পরিবর্তনশীল বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেন।
ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের মৃত্যুর পর সরিষাবাড়ীর রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে শামীম তালুকদার স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উত্তরাধিকারের চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। সরিষাবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং পরবর্তীতে জামালপুর জেলা বিএনপির নেতৃত্বে থেকে তিনি সংগঠন পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়েও তিনি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন। মামলা, হামলা এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তাঁর সমর্থকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করেছে।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিজয়ী হন। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ও বিশাল ব্যবধান স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সমর্থকদের মতে, এই ফলাফল সরিষাবাড়ীতে তাঁর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফরিদুল কবীর শামীম তালুকদারের এই বিজয় কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি স্থানীয় রাজনীতিতে ধারাবাহিক নেতৃত্বের একটি উদাহরণ। উন্নয়ন, সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে তিনি এখন সরিষাবাড়ীর রাজনীতিতে একটি প্রতিষ্ঠিত নাম।
জামালপুরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে— স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
