![]() |
| সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্পৃক্ততায় পরিচিত মুখ এস.এম খুররম আজাদ। |
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এমন কিছু নাম রয়েছে, যেগুলো কেবল পরিচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো পরিণত হয় মানুষের আস্থা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক পরিচয়ের অংশে। এস.এম খুররম আজাদ তেমনই একটি নাম, যিনি একদিকে সাংবাদিকতা, অন্যদিকে সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত অবস্থানের মাধ্যমে সরিষাবাড়ীর মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
বর্তমান সময়ে স্থানীয় সাংবাদিকতা যেমন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, তেমনি বদলে যাচ্ছে মানুষের তথ্য গ্রহণের ধরণও। এই পরিবর্তনের সময়ে যারা সংবাদকে কেবল পেশা হিসেবে নয়, দায়িত্ব হিসেবেও দেখেন, তাঁদের নামই সাধারণ মানুষের আলোচনায় বেশি উঠে আসে। সরিষাবাড়ীতে এস.এম খুররম আজাদকে নিয়েও অনেকের আগ্রহের পেছনে রয়েছে সেই বাস্তবতা।
“এস.এম”—এই সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের মধ্যেও রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্যের একটি গল্প। শেখ মুহাম্মদ থেকে আসা এই পরিচয় বহন করছে সরিষাবাড়ী উপজেলার শেখ পরিবারের উত্তরাধিকার। মৃত আব্দুল খালেকের সন্তান এস.এম খুররম আজাদ নিজের পরিচয়কে শুধু পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক উপস্থিতির মাধ্যমে সেটিকে আরও বিস্তৃত করেছেন।
![]() |
| সাংবাদিকতা ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় এস.এম খুররম আজাদ। |
বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আজকের প্রভাত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় সমস্যা, মানুষের জীবনযাত্রা, জনস্বার্থের বিষয়, সামাজিক বাস্তবতা এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে তাঁর উপস্থিতি সরিষাবাড়ীর পাঠকদের কাছেও পরিচিত।
স্থানীয় সংবাদ অঙ্গনে তাঁর আরেকটি পরিচয় হলো অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ, তথ্য যাচাই এবং সমাজের প্রতি জবাবদিহিতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন বলেই অনেকের কাছে তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। কারণ বর্তমান সময়ে শুধু সংবাদ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সংবাদকে বিশ্বাসযোগ্য রাখাও একজন সাংবাদিকের বড় দায়িত্ব।
সংবাদ যখন মানুষের আস্থা বহন করে, তখন সাংবাদিকতার মূল্য আরও বেড়ে যায়—এই দর্শন থেকেই যেন তাঁর কাজের ধরণ তৈরি হয়েছে। ফলে তাঁর প্রতিবেদনে কেবল তথ্য নয়, সমাজের বাস্তবতা এবং মানুষের অনুভূতির প্রতিফলনও খুঁজে পান অনেক পাঠক।
![]() |
| সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন এস.এম খুররম আজাদ। |
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সংস্কৃতির সঙ্গেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা। সরিষাবাড়ী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর ভূমিকা স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও পরিচিত। তবে তাঁর পরিচয় শুধু কোনো পদবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কণ্ঠ, সুর এবং সাংস্কৃতিক উপস্থিতিও তাঁকে আলাদা করে চেনায়।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন এবং জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন পরিবেশে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে আরও পরিচিত করে তুলেছে। ফলে সংবাদপত্রের বাইরেও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমান সময়ে এমন মানুষ খুব বেশি দেখা যায় না, যারা একই সঙ্গে সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক পরিচয়ের ভার বহন করেন। আর সেই কারণেই হয়তো এস.এম খুররম আজাদকে ঘিরে সরিষাবাড়ীর মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।
কিছু নাম সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। আবার কিছু নাম থেকে যায় মানুষের আলোচনায়, স্মৃতিতে এবং একটি অঞ্চলের পরিচয়ের অংশ হয়ে। সরিষাবাড়ীতে এস.এম খুররম আজাদকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিচিতিও যেন তেমনই এক দীর্ঘস্থায়ী গল্পের অংশ।
সরিষাবাড়ীতে সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে একসঙ্গে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব খুব বেশি দেখা যায় না। সেই দিক থেকে এস.এম খুররম আজাদের পরিচয় স্থানীয় জনপরিসরে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা তাঁর সামাজিক পরিচিতিকেও আরও বিস্তৃত করেছে।
একজন মানুষের পরিচয় তখনই আরও গভীর হয়ে ওঠে, যখন সেটি কেবল একটি পেশায় সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষের আস্থা, সংস্কৃতি এবং সমাজের সঙ্গে যুক্ত হয়। এস.এম খুররম আজাদের পথচলার মধ্যেও সেই বহুমাত্রিক পরিচয়ের প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।


